মোঃ আব্দুস সামাদ আজাদ, সিলেট

কৌশল বদলে চলছে বিভিন্ন তামাক জাত পন্যের রমরমা বিজ্ঞাপন দেখার যেন কেউ নেই ৷ তামাক ও তামাকজাত পন্যের কুফল সম্পর্কে সবাই অবগত ৷ আরো সচেতনতার লক্ষ্যে সকল তামাক জাত পন্য যেমন-বিড়ি,সিগারেট,জদ্দা,গুল এর সব ধরনের প্রচার প্রচারণা ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ দীর্ঘদিন যাবৎ ৷ তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানুষকে রক্ষা করায় এর মুল উদ্দেশ্য ৷ একই সাথে তামাক জাত পন্যের প্যাকেটে সচিত্র সর্তক বার্তা ও ক্যাম্পেইন চলছে এর ভয়ংকর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সমাজকে বাচাতে ৷তবে বসে নেই এই সকল পন্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৷তারা কৌশল পরিবর্তন করে ঠিকই চালিয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞাপন ৷ ছোট বড় প্রায় সব ধরনের তামাক জাত পন্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ই কৌশল পরিবর্তন করে চালিয়ে যাচ্ছে রমরমা বিজ্ঞাপন ৷
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাজারে সব ধরনের তামাকজাত পন্যের বিজ্ঞাপন ৷ ইদের শুভেচ্ছা, পন্যের প্যাকেট ও ফ্লেভার পরিবর্তনের ছুতায় চলছে জমকালো বিজ্ঞাপন ৷৷আকিজ বিড়ি ,গ্রামীন বিড়ি শেখ সিগারেট ,ডার্বি সহ প্রায় সকল ব্যান্ডের বিড়ি ও সিগারেটের বিজ্ঞাপন যত্রতত্র লক্ষ্য করা যায়৷ প্রশাসনের তরফ থেকে লিফলেট,সাইনবোর্ডও ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ থাকলেও বেশ কিছু ব্রান্ডের বিড়ি ও সিগারেটের লিফলেট বিভিন্ন দোকানে চোখে পড়ে ৷ তবে ডার্বি ব্রান্ডটি ব্যবহার করছে লিফলেট নয় দোকানের সামনে টেবিলের উপর বসানোর ত্রিভুজ আকৃতির বিজ্ঞাপন বক্স ৷ বক্সের নিচে খুব ছোট করে দায় এড়িয়ে যাবার জন্য লিখেছে”শুধু মাত্র দোকানদারের ব্যবহারের জন্য ,অন্য কোন উদ্দেশ্য নয়” যা নিছকই দায় সাড়া আর কিছু না ৷ কিন্তু বাক্সের গায়ে ডার্বির গুনকীর্তন গেয়ে বড় বড় লেখা হয়েছে “ডার্বি এখন আরো ফ্রেশ” যার তুলনায় সতর্ক বার্তা কিছুই না , শেখ সিগারেটের বিজ্ঞাপনের লিফলেটে লেখা হয়েছে “এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব,এগিয়ে যাচ্ছে শেখ” ৷ এ ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন যুব সমাজকে এই ভয়ানক ক্ষতিকর পন্যের প্রতি আকৃষ্ট করবে বলে ধারণা সুশীল সমাজের ৷ এ ধরনের অসংখ্য বিজ্ঞাপন সকলের নজরে আসলেও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের৷ এতে প্রতিবেদকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেশ কয়েক জন সমাজের সচেতন নাগরিক ৷ তারা বলেন ,যুব সমাজকে তামাক ও তামাকজাত পন্যের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে হবে কিন্তু এসকল পন্যের এমন চটকদার বিজ্ঞাপন তাদের কে এই ক্ষতিকর পন্যের প্রতি আকৃষ্ট করবে যা সমাজের জন্য অশনি সংকেত ৷ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ অতি দ্রুত এগুলি বন্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করেন সচেতন নাগরিক সমাজ ৷ তামাকজাত পন্যের ব্যবহার কমাতে প্রতি বছর তামাকজাত পন্যের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ করলেও কোন সুফল আসেনি কারন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টান গুলি অতিরিক্ত কর আরোপের কারনে পন্যের দাম বৃদ্ধি করছে প্রতি বছর ফলে অার্থিক ভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারন মানুষ ৷আবার ধুমপানের ফলে পরিবেশ ও দুষিত হচ্ছে ৷ এক গবেষণায় দেখা গেছে ধুমপান কারীর তুলনায় পাশের অধুমপায়ী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৷ ফলে বিভিন্ন রোগের হার তুলনামুলক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যা জাতীয় সমস্যায় রুপ নিয়েছে ৷ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশ ,সমাজ তথা যুব সমাজকে তামাক জাত পন্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে এটিই প্রত্যাশা ৷